Search
Close this search box.

সাভারে ৬ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা প্রধান আসামিসহ ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

মানিক মিয়া স্টাফ রিপোর্টার// সাভারের আমিনবাজারে শবে বরাতের রাতে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মালেকসহ ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া, ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা জেলার দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ ইসমত জাহানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় ২৫ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, মারা যাওয়ায় তিন আসামিকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় দেয়া হলো।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: আব্দুল মালেক, সাঈদ মেম্বর, আব্দুর রশিদ, ইসমাইল হোসেন রেফু, নিহার ওরফে জমশের আলী, মীর হোসেন, মজিবর রহমান, আসলাম মিয়া, আলম, আনোয়ার হোসেন, রজুর আলী সোহাগ, রানা ও আ. হামিদ।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: শাহীন আহমেদ, ফরিদ খান, রাজীব হোসেন, মো. ওয়াসিম, সাত্তার, সেলিম, মনির, আলমগীর, মোবারক হোসেন, অখিল খন্দকার, বশির, রুবেল, অভি, শাহাদাত, টুটুল, মাসুদ, মোখলেস, নূর ইসলাম ও তোতন।

মামলার আরেকটি ধারায় সব আসামিকে আরও সাত বছরের জেল ও অর্থদণ্ডও দেয়া হয়।মামলার মোট আসামি ৬০ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে তিনজন মারা গেছেন। অবশিষ্ট ৫৭ জনের মধ্যে ৪৫ জন হাজতে রয়েছেন এবং পলাতক রয়েছেন ১২ জন।এর আগে, আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করতে সকাল ৮টায় কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থাকা ৪৪ আসামিকে আদালতে আনা হয়। বেলা ১১টার দিকে একে একে তাদের আদালতে তোলা হয়। এসময় পলাতক দুই আসামি আমিন ও তোতন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তোষ জানালেও, উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

আর রায়ে সন্তোষ জানান নিহত ছয় শিক্ষার্থীর স্বজনরা। অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পর আদালত চত্তরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আসামিদের স্বজনরা।এর আগে, গেল ২২শে নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২রা ডিসেম্বর এই রায়ের দিন ধার্য করা হয়।২০১১ সালের ১৭ই জুলাই শবে বরাতের রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামের কেবলারচরে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহতরা হলেন: ধানমন্ডির ম্যাপললিফ স্কুলের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম শাম্মাম, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল, বাঙলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান পলাশ, তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান, মিরপুরের বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবীর মুনিব এবং বাঙলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কামরুজ্জামান।

নিহতদের সঙ্গে থাকা বন্ধু আল-আমিন গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। ওই ঘটনার পর আল-আমিনসহ নিহতদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি ডাকাতি মামলা করেন আবদুল মালেক নামে স্থানীয় এক বালু ব্যবসায়ী।এরপর ছাত্র, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতার মুখে পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত গ্রামবাসীকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় আরেকটি মামলা করে। পরে মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদ ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।এরপর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ইসমত জাহানের আদালতে আসে।

২০১৩ সালের ৮ জুলাই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। এছাড়া ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র ভিকটিম আল-আমিনকে একই ঘটনায় করা ডাকাতি মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলার ৬০ আসামির মধ্যে হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ছয়জন পলাতক, একজন কারাগারে ও ৫২ জন জামিনে আছেন।

এছাড়া দুই আসামি মারা যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় ১৪ আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।