Search
Close this search box.

কৃষক হত্যার ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ ১৪ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৪

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:- ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডে কৃষক হাফিজুর রহমান হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এতে বিএনপি নেতা আনিচুর রহমান মাস্টারসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যা মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১০ অক্টোবর) রাতে নিহত হাফিজুরের ভাই জাফিরুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।এ ঘটনায় র‌্যাব ও পুলিশ এখনো পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।গ্রেপ্তাররা ব্যক্তিরা হলেন সেকেন্দার আলী, শাহিন জোয়ার্দার, আলমগীর হোসেন আলম এবং জাহিদুল ইসলাম। তাদের মধ্যে সেকেন্দার ও শাহিনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং অন্য দুজনকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। বিএনপি নেতা আনিচুর রহমানের ভাই উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ও গত ইউপি নির্বাচনে দৌলতপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সেকেন্দার আলীকেও মামলার আসামি করা হয়েছে। জানা যায়, নিখোঁজের ৪ দিন পর ৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার কেষ্টপুর গ্রামের কাটা খালের পাড় থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় কৃষক হাফিজের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কৃষক হাফিজুর রহমান উপজেলার রিশখালী গ্রামের বাসিন্দা।এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দা, কোদাল, পলিথিনের অংশ, জিআই তার ও ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলেও পুলিশ জানায়।

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে এক সংসাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) অমিত কুমার।তিনি বলেন, সামাজিক বিরোধ এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে ওই কৃষককে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রসহ অন্য আলামত। তিনি আরও বলেন, আসামিদের মধ্যে কেউ কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁদের টাকার বিনিময়ে ভাড়া করা হয়েছিল। বাকিদের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে র‌্যাব-৬ মঙ্গলবার বিকেলে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নিখোঁজ ডায়েরির একটি কপি তাঁদের দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তারা তদন্ত শুরু করে। মোবাইল ফোন ট্রাকিংসহ নানা প্রক্রিয়া অবলম্বন করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালনো হয়।ঝিনাইদহ র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ শরীফুল আহসান জানান, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে সদর উপজেলার সাধুহাটি বাসস্ট্যান্ড থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামিদের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।হরিণাকুন্ড থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, নিহত হাফিজুর এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনাকারী আনিচ মাষ্টার ও সেকেন্দার আলীর বাড়ি একই গ্রামে। হাফিজুরের চাচা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। কিছুদিন আগে গ্রামের একটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। প্রতিশোধ নিতে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।